• ৯ কার্তিক ১৪৩৩, বৃহস্পতি ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

US

রাজ্য

স্কুলে ফিরুক পাস-ফেল, মোবাইল নিষিদ্ধের পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর

স্কুলশিক্ষায় একাধিক পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার উপরে জোর দিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি (NCC) এবং এনএসএস (NSS) চালু করার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটানোও জরুরি।রবিবার রামনগরে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশানা করে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন মুখ্যমন্ত্রী।স্কুলশিক্ষার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা এবং পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এবং আধুনিক ভাষার সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচিত করে তোলার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার পরিসর শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপেও গুরুত্ব দিতে হবে।প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি এবং এনএসএস ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্রের চর্চাও স্কুলে থাকা উচিত। পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভা খুঁজে বের করে তা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শিক্ষানীতি নিয়েও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এনসিসি তুলে দিয়ে জয় হিন্দ বাহিনী চালু করা হয়েছিল। ব্রতচারী কার্যক্রম বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভাষা ও শব্দের ব্যবহার নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
বিদেশ

সমুদ্রের নিচে আমেরিকার গোপন হামলা! ইরানের ঘাঁটি উড়িয়ে দিল নতুন মারণাস্ত্র, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ল। এবার সমুদ্রপথে নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে আমেরিকা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও যুদ্ধে সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযানে ইরানের একটি ডুবোজাহাজ এবং জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। হামলার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, রবিবার মানববিহীন সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের বন্দর আব্বাসে অভিযান চালানো হয়। তাদের দাবি, তিনটি সামুদ্রিক ড্রোন দিয়ে ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতে সফল হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযানের ফলে হরমুজ প্রণালী এলাকায় ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধাক্কা লেগেছে বলেও দাবি করেছে আমেরিকা।প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট মানববিহীন জলযান দ্রুত গতিতে জলের উপর দিয়ে এগিয়ে গিয়ে একটি স্থাপনার সঙ্গে ধাক্কা মারে। তার পরেই প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুনের বিশাল গোলা আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন দাবি, ওই বিস্ফোরণে জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।এই হামলার আগে থেকেই হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। আমেরিকার অভিযোগ, ইরান একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি একটি মালবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। অন্যদিকে মার্কিন বাহিনীও টানা কয়েক দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ঘোষণা করেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে আবারও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজের জন্য নতুন শুল্ক আরোপের কথাও জানান তিনি। এর পাল্টা জবাবে ইরান বাহরিন, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একাধিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।

জুলাই ১৪, ২০২৬
বিদেশ

ট্রাম্পের বড় ঘোষণা: ইরানের সঙ্গে চুক্তি, খুলছে হরমুজ়—স্বস্তির নিশ্বাস বিশ্ববাজারে

দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের পর অবশেষে সমঝোতার পথে হাঁটল আমেরিকা ও ইরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ় প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী শুক্রবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।সোমবার ভোরে প্রথমে পাকিস্তান এই সমঝোতার খবর প্রকাশ করে। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়েই আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়টি স্বীকার করে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর বাকি, তবুও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।ট্রাম্পের ঘোষণা: ইঞ্জিন চালু করুক বিশ্বের জাহাজনিজের সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন। হরমুজ় প্রণালীর ব্যবহার আবার স্বাভাবিক হবে। মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের সব জাহাজ আবার তাদের যাত্রা শুরু করতে পারে।তিনি আরও দাবি করেন, বহু মার্কিন প্রশাসন অতীতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। তাঁর মতে, এই চুক্তি পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী?বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বিশাল অংশ হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। পশ্চিম এশিয়ার তেলসমৃদ্ধ দেশগুলির জন্য এই জলপথ কার্যত জীবনরেখা। ফলে সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ে।গত কয়েক মাস ধরে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে এই জলপথে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছিল। বহু বাণিজ্যিক জাহাজ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, যার ফলে পরিবহণ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।মাইন সরানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জতবে চুক্তি হলেই যে সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে, তা নয়। সংঘাতের সময় ইরান হরমুজ় প্রণালীর বিভিন্ন অংশে সামুদ্রিক মাইন বা বিস্ফোরক বসিয়েছিল বলে অভিযোগ। এই মাইন এখনও পুরোপুরি অপসারণ করা হয়নি।মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরই যৌথভাবে মাইন অপসারণের কাজ শুরু হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর ধাপে ধাপে পূর্ণমাত্রায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করা হবে। ফলে বাস্তবে পরিবহণ স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অগ্রগতিএই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ রবিবারই সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও সেই সময় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।পরবর্তীতে একাধিক দফার কূটনৈতিক যোগাযোগের পর দুই দেশই আলোচনায় অগ্রগতির কথা স্বীকার করে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই প্রথম দুই পক্ষ প্রকাশ্যে সমঝোতার বার্তা দিল।এখনও বাকি পারমাণবিক ইস্যুর সমাধানবিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সমঝোতা মূলত হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে তাৎক্ষণিক সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক কর্মকাণ্ডের মতো জটিল বিষয়গুলি এখনও আলোচনার বাইরে রয়েছে।ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আগামী দিনে একাধিক পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। সেই আলোচনাগুলিই নির্ধারণ করবে দুই দেশের সম্পর্ক স্থায়ীভাবে উন্নতির পথে এগোবে কি না।বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের আশা, হরমুজ় প্রণালী পুনরায় চালু হলে বিশ্ব তেলবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।

জুন ১৫, ২০২৬
দেশ

নিখোঁজ নয়, মৃত্যু! ওমানের উপকূলে হামলায় প্রাণ গেল তিন ভারতীয় নাবিকের

ওমানের উপকূলে তেলের জাহাজে হামলার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তিন ভারতীয় নাবিকের (Indian Sailors)। প্রথমে তাঁদের নিখোঁজ বলে মনে করা হলেও পরে তাঁদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহত নাবিকদের পরিবারে।জানা গিয়েছে, পালাউয়ের পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাঙ্কার ওমানের উপকূল দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার মুখে পড়ে। জাহাজটিতে মোট আটাশ জন নাবিক ছিলেন (Indian Sailors)। তাঁদের মধ্যে চব্বিশ জন ছিলেন ভারতীয়। এছাড়াও পাকিস্তান, ইউক্রেন এবং রাশিয়ার নাগরিকও ছিলেন জাহাজে।হামলার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বেশিরভাগ নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিন ভারতীয় নাবিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী জানান, নিখোঁজ তিন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের দেহ ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে (Indian Sailors)।নিহত নাবিকদের মধ্যে রয়েছেন ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা, ইঞ্জিন ফিটার শিবনন্দ চৌরাশিয়া এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার পি সুরেশ। তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে এবং সব ধরনের সহায়তা করা হবে (Indian Sailors)।সর্বানন্দ সোনওয়াল আরও জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দেহগুলি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে পরিবারের সদস্যরা শেষকৃত্যের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।এই হামলার ঘটনায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র উদ্বেগ এবং নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং এর নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে।সমুদ্রপথে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনার পর। নিহত তিন নাবিকের মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ তাঁদের পরিবার, সহকর্মী এবং গোটা দেশ।

জুন ১১, ২০২৬
কলকাতা

হিলারির পর এবার মার্কো রুবিও! হঠাৎ কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, বাড়ছে জল্পনা

প্রায় ১৪ বছর পর আবার কলকাতায় এলেন মার্কিন বিদেশসচিব। হিলারি ক্লিনটনের পর এবার শহরে পা রাখলেন মার্কো রুবিও। শনিবার সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। তারপর সোজা যান তালতলার মাদার হাউজে। সেখানে প্রায় দুঘণ্টা কাটানোর পর চিলড্রেনস হোমেও যান তাঁরা। এরপর তাঁর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে দেখার কথাও রয়েছে। কলকাতা সফর শেষ করে দুপুরেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন মার্কো রুবিও। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর সমাজমাধ্যমে রুবিওর কলকাতা সফরের কথা জানান। তিনি লেখেন, মার্কিন বিদেশসচিবের এটি প্রথম ভারত সফর। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং কোয়াড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। সূত্রের খবর, শুধু কলকাতা ও দিল্লি নয়, আগ্রা এবং জয়পুরেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে সরকার বদলের পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজেপি প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক বার্তা দিয়েছেন। দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে শিল্প বিনিয়োগ টানার কথাও বলেছেন তিনি।অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বারবার বিদেশি বিনিয়োগের উপর জোর দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিবের কলকাতা সফরকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অনেকের মতে, শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা হতে পারে।এছাড়াও সম্প্রতি লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটিতে চিনের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই আবহে মার্কিন বিদেশসচিবের ভারত সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিকেও নজর রয়েছে। অনেকের মতে, চিনকে কড়া বার্তা দিতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।সব মিলিয়ে মার্কো রুবিওর কলকাতা সফর যে শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, তার পিছনে বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ২৩, ২০২৬
রাজ্য

হরমুজ প্রণালিতে বড়সড় সংঘাত! ইরানের জাহাজে হামলা চালিয়ে দখল নিল আমেরিকা

হরমুজ প্রণালির কাছে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি ইরান-চিহ্নিত পণ্যবাহী জাহাজ দখল করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আঘাত করে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়, তারপর সেটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।ট্রাম্প জানান, ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ একটি ইরানি জাহাজকে আটকায়, যখন সেটি আমেরিকার আরোপ করা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। হামলার ফলে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেটি আর চলতে পারেনি। পরে মার্কিন সেনারা জাহাজটির দখল নেয় এবং সেটির ভেতরে কী আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও দেখা গিয়েছে, হামলার আগে জাহাজের ক্রুদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। সেখানে বলা হয়, ইঞ্জিন কক্ষ খালি করে দিতে, না হলে গুলি চালানো হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণের দৃশ্যও দেখা যায়।এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ চলাচলের উপর আমেরিকা কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, তাই এর উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।একই সময়ে ইরানের সঙ্গে একটি বড় চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা পরবর্তী বৈঠকে অংশ নেবে না। তাদের অভিযোগ, আমেরিকা অতিরিক্ত শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে এবং অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, যা চুক্তির পরিপন্থী।ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জমা দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

এপ্রিল ২০, ২০২৬
বিদেশ

পাঁচ হাজার পাউন্ডের বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা! ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি

হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের উপকূল অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিতে বড়সড় হামলা চালিয়েছে আমেরিকার সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, এই হামলায় শক্তিশালী বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যার ওজন প্রায় পাঁচ হাজার পাউন্ড।আমেরিকার কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, এই বোমাগুলি এমনভাবে তৈরি, যা মাটির নিচে বা শক্তভাবে সুরক্ষিত ঘাঁটি ধ্বংস করতে পারে। তারা জানিয়েছে, ইরানের উপকূলবর্তী এলাকায় থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।আমেরিকার দাবি, ওই এলাকায় থাকা জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় বিপদ তৈরি করছিল। তাই সেই হুমকি দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ন্যাটোর বেশিরভাগ দেশ এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে চায় না। যদিও তারা আমেরিকার পদক্ষেপকে সমর্থন করছে, তবুও সামরিকভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না।ট্রাম্প বলেন, সবাই আমেরিকার সঙ্গে একমত হলেও সাহায্য করতে চায় না, যা তাঁর কাছে বিস্ময়কর বলে মনে হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানাননি, এই অবস্থানের জন্য তিনি মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেবেন কি না।এর আগে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলি নিরাপদে চলাচল করতে পারে।কিন্তু জার্মানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই সংঘাতে অংশ নেবে না। ফ্রান্সও জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনও সামরিক পদক্ষেপে যাবে না।অন্যান্য দেশগুলিও এই বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি, ফলে আমেরিকা কার্যত একাই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের প্রায় কুড়ি শতাংশ তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। কিন্তু মার্চের শুরু থেকে চলা যুদ্ধের কারণে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহে বড় প্রভাব পড়েছে এবং তেলের দাম দ্রুত বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

মার্চ ১৮, ২০২৬
বিদেশ

আমেরিকার যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের! সত্যিই কি পিছু হটল শক্তিশালী রণতরী

আরব সাগর ও ওমান সাগর সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমেরিকার একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, যুদ্ধজাহাজটি এখনও স্বাভাবিক ভাবেই অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবিভাগ জানিয়েছে, তাদের নিক্ষেপ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আমেরিকার বিমানবাহী রণতরীতে আঘাত করেছে। তাদের দাবি, সেই আঘাতে যুদ্ধজাহাজটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং উপসাগরীয় এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।ইরানের তরফে আরও বলা হয়েছে, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে একটি নির্ভুল সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল। ইরানের সমুদ্রসীমা থেকে প্রায় তিনশো চল্লিশ কিলোমিটার দূরে ওমান সাগরে এই হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর আমেরিকার ওই যুদ্ধজাহাজ ও তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য জাহাজ দ্রুত গতিতে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগেও ইরান দাবি করেছিল যে তারা এই যুদ্ধজাহাজে আঘাত করেছে। কিন্তু তখন মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছিল, সেই ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজের কাছেও পৌঁছতে পারেনি।ইরানের এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পরই যুক্তরাষ্ট্র তা সরাসরি খারিজ করে দেয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের পক্ষ থেকে যুদ্ধজাহাজের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ওই রণতরী এবং তার সঙ্গে থাকা নৌবহর এখনও সমুদ্র থেকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।এই উত্তেজনার মধ্যেই সমুদ্রে আরও একটি ঘটনার খবর সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ইরানি জাহাজ আমেরিকার বিমানবাহী রণতরীর খুব কাছাকাছি চলে আসে। তখন মার্কিন বাহিনী গুলি চালায় বলে জানা গেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ বড় আকারের কামান ব্যবহার করে ওই ইরানি জাহাজের দিকে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। তবে ঠিক কোন জাহাজ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। গুলিগুলি সতর্কবার্তা হিসেবে ছোড়া হয়েছিল কি না, সেটাও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওই গুলি একাধিকবার ইরানি জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হলেও কোনওটিই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ইরানের ওই জাহাজটির বর্তমান অবস্থাও এখনও পরিষ্কার নয়।পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সেখানে একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ বিমান অভিযান শুরু হওয়ার পর দুটি বড় বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।এই মুহূর্তে অঞ্চলে আমেরিকার দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে। তাদের সঙ্গে একাধিক বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজও কাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজও রয়েছে, যেগুলি ওই সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযান পরিচালনায় অংশ নিচ্ছে।

মার্চ ১৩, ২০২৬
বিদেশ

ইরানের হামলায় জ্বলল মার্কিন তেল ট্যাঙ্কার, নিহত এক ভারতীয় নাগরিক

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আরও এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরাকের উপকূলের কাছে আমেরিকার দুটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে ইরান। সেই হামলার পর ভয়াবহ আগুন ধরে যায় জাহাজে। ওই ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলছে। ইরানের উপর হামলা আরও জোরদার করেছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইরানও। এই সংঘর্ষে ক্রমশ বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সাধারণ মানুষও এই যুদ্ধের বলি হচ্ছেন। কাজের সূত্রে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বহু ভারতীয় থাকেন। সেই কারণে এই সংঘর্ষে ভারতীয় নাগরিকরাও বিপদের মুখে পড়ছেন।সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরাকের জলসীমার মধ্যে খোর আল জুবায়ের বন্দরের কাছে হামলার ঘটনা ঘটে। সাফেসি বিষ্ণু নামে একটি জাহাজে থাকা আমেরিকার দুটি তেল ট্যাঙ্কারে ইরানের নৌকা থেকে হামলা চালানো হয়। হামলার পর মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় ট্যাঙ্কার দুটিতে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জাহাজ থেকে তেল সমুদ্রে পড়তে শুরু করে।এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ট্যাঙ্কার থেকে আগুনের বিশাল শিখা উঠছে এবং চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। জানা গিয়েছে, ওই ট্যাঙ্কারগুলিতে প্রায় চার লক্ষ ব্যারেল তেল ছিল।হামলায় নিহত ভারতীয় নাগরিকের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজে থাকা বাকি সাতাশ জন সদস্য এবং কর্মীকে উদ্ধার করে দক্ষিণ ইরাকের বসরা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘর্ষ এখন ত্রয়োদশ দিনে পৌঁছেছে। এখনও পর্যন্ত তিনজন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন কুড়ির বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর।কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই দুজন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন সংসদে বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্য জয়শঙ্কর জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে দুই ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন এখনও নিখোঁজ। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।মৃত ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি শোকপ্রকাশও করেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, ইরানে বহু ভারতীয় পড়ুয়া এখনও আটকে রয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটির বেশি ভারতীয় বসবাস করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে।

মার্চ ১২, ২০২৬
বিদেশ

দুবাইয়ে মার্কিন দূতাবাসে ইরানি ড্রোন! আগুনে জ্বলল কনসুলেট, বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হল। দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ইরানের ড্রোন আছড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। হামলার পর দূতাবাসে আগুন ধরে যায়। তবে ইরানের দাবি, আগুন লাগলেও কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, মার্কিন নাগরিকদের উপর হামলা হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে। সেই হুঁশিয়ারির মধ্যেই এই ড্রোন হামলা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্যেও পড়তে পারে।অন্যদিকে ইরানে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইজরায়েল। ইরানের দাবি, তেহরান বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে ইজরায়েলি বাহিনী। পূর্ব তেহরানের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্কবার্তা দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। দক্ষিণ ইরানের বুশেহর শহরে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বিমানও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি। সেই বিমানে যাত্রী ছিলেন কি না, থাকলেও কত জন ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, গত চার দিনে প্রায় এক হাজার সাতশো জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের একটি গোপন পরমাণু ঘাঁটিতেও ইজরায়েলি বায়ুসেনা হানা দিয়েছে বলে খবর। মিনজাদেহেই নামে ওই ঘাঁটি নিখুঁত আঘাতে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি। ইরানের বিজ্ঞানীরা সেখানে পরমাণু বোমা তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করতেন বলে অভিযোগ। তবে সেখানে কোনও রিঅ্যাক্টর না থাকায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে।মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, এই অভিযান না চালালে ইরান কয়েক মাসের মধ্যেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে ফেলত। তিনি স্পষ্ট বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে দেওয়া হবে না।মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বদলে যাওয়া এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
বিদেশ

ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা!

ইরানকে ঘিরে চলা সামরিক অভিযানের মধ্যে বড় কূটনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি জানান, স্পেন যদি আমেরিকার সেনাবাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেয়, তবে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, স্পেনের আচরণ অত্যন্ত খারাপ। তিনি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে নির্দেশ দিয়েছেন, স্পেনের সঙ্গে সব লেনদেন বন্ধ করার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে। অর্থমন্ত্রীও প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানকে সমর্থন করেন এবং জানান, প্রয়োজন হলে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে।এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্ত। দক্ষিণ স্পেনের রোটা ও মোরোন সামরিক ঘাঁটি থেকে আমেরিকা তাদের অন্তত পনেরোটি বিমান সরিয়ে নেয়। এর মধ্যে ছিল জ্বালানি ভরার ট্যাঙ্কার বিমানও। স্পেনের সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়, ইরানের উপর হামলার মতো অভিযানে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। স্পেনের বিদেশমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস বলেন, এই সামরিক অভিযান তাদের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় পড়ে না এবং তা জাতিসংঘ সনদের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাত ইতিমধ্যেই ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় উপসাগরীয় একাধিক দেশে, যেখানে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কাতার, কুয়েত ও বাহরিনে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর মিলেছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব ও ওমানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সংকটে ইতিমধ্যেই পাঁচশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান। নিহতদের মধ্যে ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির উপর।স্পেনকে ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কূটনৈতিক টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

মার্চ ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

সূর্যের আলোয় জয়, কিন্তু ভারতের ব্যাটিংয়ের ছায়া প্রকট বিশ্বকাপ শুরুতেই

ওয়াংখেড়েতে প্রত্যাশিত অঘটন ঘটেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আমেরিকাকে হারিয়েই অভিযান শুরু করল ভারত। তবে ২৯ রানের এই জয়ের আড়ালে লুকিয়ে রইল একাধিক প্রশ্নচিহ্নবিশেষ করে ভারতের ব্যাটিং নিয়ে।টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ১৬১ রান। নামের ভারে শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের থেকে যা অনেকটাই কম। সূর্যকুমার যাদব ছাড়া কার্যত ব্যর্থ সবাই। একাই লড়াই করে ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর ইনিংস না থাকলে ভারতের পরিস্থিতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা সহজেই অনুমেয়।ম্যাচের শুরু থেকেই অস্বস্তিতে পড়ে ভারত। দ্বিতীয় ওভারেই শূন্য রানে ফেরেন অভিষেক শর্মা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম বলেই আউট হওয়ার প্রবণতা আবারও চোখে পড়ল। ঈশান কিশন ও তিলক বর্মা কিছুটা আশার আলো দেখালেও এই মন্থর পিচে দৌড়ে রান নেওয়ার বদলে বড় শটের উপর নির্ভর করাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। শ্যাডলে ফান শকউইকের দুরন্ত স্পেলে মুহূর্তে ভেঙে পড়ে ভারতের ইনিংস। ৪৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।পাওয়ার প্লে-র পর সূর্য ও রিঙ্কু সিংহ জুটি বাঁধার চেষ্টা করলেও রান তোলার গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। এক সময় টানা ২৭ বল কোনও বাউন্ডারি আসেনি। রিঙ্কু, হার্দিককেউই তাল কাটাতে পারেননি। ৭৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ওয়াংখেড়ে কার্যত স্তব্ধ।সেই কঠিন মুহূর্তেই দায়িত্ব নেন সূর্যকুমার যাদব। পিচ বুঝে, ঝুঁকি কমিয়ে, দৌড়ে রান আর সঠিক সময়ে বড় শটএই মিশ্রণেই ইনিংস সাজান তিনি। স্কোয়্যার অঞ্চলে শট, সুইপ, উইকেটের চারদিকে খেলেই প্রমাণ করেন কেন তাঁকে ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটার বলা হয়। অক্ষর পটেলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৪১ রানের জুটি গড়ে তোলেন তিনি। শেষ পাঁচ ওভারে ভারত তোলে ৬৯ রান।আমেরিকার বোলিংয়ে শকউইক নজর কাড়েন ৪ উইকেটে। তবে সৌরভ নেত্রভলকর ভুলে যাওয়ার মতো দিন কাটান৪ ওভারে ৬৫ রান, উইকেটশূন্য।১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আমেরিকাও এই পিচে যে সমস্যায় পড়বে, তা শুরুতেই বোঝা যায়। সিরাজ ও অর্শদীপের আগ্রাসী বোলিংয়ে ১৩ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা। মাঝখানে মিলিন্দ কুমার ও সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তির জুটি কিছুটা লড়াইয়ের রসদ জোগালেও প্রয়োজনীয় রানরেটের চাপ সামলাতে পারেনি আমেরিকা।শেষ দিকে বড় শট মারার চেষ্টা করতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারায় তারা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩২ রানেই থামে আমেরিকার ইনিংস। সিরাজ নেন ৩টি উইকেট, অক্ষর ২টি, বরুণ ও অর্শদীপ পান ১টি করে।ম্যাচ জিতলেও ভারতের শিবিরে স্বস্তির হাসি নেই। ডাগআউটে গম্ভীর মুখে বসে থাকা গৌতম গম্ভীরই যেন তার ইঙ্গিত। জলপানের বিরতিতে মাঠে নেমে পরামর্শ দিলেও, ব্যাটিংয়ের এই ছবি নিশ্চয়ই কোচিং স্টাফকে ভাবাচ্ছে।বিশ্বকাপ শুরু হল জয়ে, কিন্তু ভারতের সামনে বার্তাটা স্পষ্টশুধু সূর্যের উপর ভর করে অনেক দূর যাওয়া যাবে না।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬
দেশ

চিন-পাকিস্তানের থেকেও কম শুল্ক! আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে বাজিমাত ভারতের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই যেন আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের শুল্কযুদ্ধের অবসান ঘটল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথাও বলেছেন বলে দাবি করেছেন। তার পরই বদলে গিয়েছে ভারতের উপর আমেরিকার শুল্ক বসানোর পুরো হিসেব।এর আগে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর এবং ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বসানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে শুল্কের হার পৌঁছে গিয়েছিল ৫০ শতাংশে। কিন্তু এখন জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আলোচনার পর সেই হার সরাসরি কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই নতুন শুল্কহার বর্তমানে চিন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটাই কম।এই খবর সামনে আসতেই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে অটো শিল্প, টেক্সটাইল এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রের জন্য এই সিদ্ধান্তকে বড় স্বস্তি বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক মহলের মতে, এর ফলে আগামী দিনে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আরও বাড়তে পারে।আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, দক্ষিণ কোরিয়ার পরে উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে ভারতের উপরেই এখন সবচেয়ে কম শুল্ক বসিয়েছে আমেরিকা। শতাংশের হিসেবে যা মাত্র ১৮। অন্যদিকে থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিন এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলির উপর আমেরিকার শুল্কহার ভারতের তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি পাকিস্তানের উপরেও ১৯ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে আমেরিকা।সব মিলিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার সঙ্গে একের পর এক বাণিজ্য চুক্তি ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই চুক্তিগুলির প্রভাব দেশের বাজার ও রপ্তানি ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
ব্যবসা

বাজেটের পরই বাজিমাত! ইন্দো-মার্কিন চুক্তিতে সেনসেক্স ৮৫ হাজার, ডলার ভাঙল

সোমবার বাজেটের পরের দিন থেকেই চাঙ্গা হয়ে উঠল শেয়ার বাজার। একই সঙ্গে ডলারের তুলনায় শক্তিশালী হল ভারতীয় টাকা। সোমবার ডলারের দাম ৪৪ পয়সা কমে দাঁড়ায় ৯১.৪৯ টাকায়। তার পর গভীর রাতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা হতেই টাকার দাম আরও বাড়ে। মঙ্গলবার ডলার আরও ১.০৯ টাকা পড়ে দাঁড়ায় ৯০.৪০ টাকায়, অর্থাৎ এক দিনে প্রায় ১.২ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে টাকা।শেয়ার বাজারেও দেখা গিয়েছে বড়সড় উত্থান। সোমবার সেনসেক্স ৮১,৬৬৬.৪৬ পয়েন্টে বন্ধ হওয়ার পর মঙ্গলবার তা প্রায় ৩,৬০০ পয়েন্ট বেড়ে ৮৫,০০০ পয়েন্টের গণ্ডি পেরিয়েছে। একইভাবে নিফটিও বাজেটের পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ২৫,০৮৮.৪০ পয়েন্টে বন্ধ হওয়ার পর মঙ্গলবার তা প্রায় ১,২০০ পয়েন্ট বেড়েছে।এই উত্থানের মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে দীর্ঘ টালবাহানার পর ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে। এই চুক্তির ফলে ভারতের উপর আমেরিকার শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।তবে এই চুক্তির পেছনে কিছু শর্তও রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত নাকি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। তার বদলে আমেরিকার কাছ থেকে বেশি করে তেল কিনবে ভারত। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল কেনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, আমেরিকা থেকে বিপুল অঙ্কের পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ভারত। ট্রাম্পের দাবি, প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য কিনবে দিল্লি।সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। সেই কথোপকথনের পর ট্রুথ সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করে এই সব দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, এই চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করা হয়েছে।এই সব শর্ত সামনে আসতেই কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তির প্রভাব শুধু কূটনীতি নয়, আগামী দিনে দেশের অর্থনীতি ও বাজারের গতিপথেও বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিদেশ

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে! যে কোনও মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা

সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এমন অবস্থায় যে কোনও মুহূর্তে ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় নয়াদিল্লি।গত বছরের শেষ দিকে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ থেকেই ইরানে এই আন্দোলনের শুরু। মাত্র দুসপ্তাহের মধ্যেই তা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় নেমেছেন প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ মানুষ। সরকার বিরোধী এই বিক্ষোভে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকার কড়া দমন নীতি নিয়েছে বলে অভিযোগ।দেশ জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় ব্ল্যাকআউট জারি রয়েছে। বিমান পরিষেবাও কার্যত বন্ধ। ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাইরের দুনিয়ার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সেখানে থাকা প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। প্রয়োজন হলে কীভাবে তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই বিষয়েও পরিকল্পনা শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।এদিকে নরওয়ের একটি বেসরকারি সংগঠন রবিবার একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে, বিক্ষোভ ও সরকারি দমন-পীড়নের জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এছাড়াও ইরানের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবিরে হামলার খবর সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি এখন কার্যত অগ্নিগর্ভ অবস্থায় রয়েছে।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
বিদেশ

প্রেসিডেন্টের আদেশ মানতে নারাজ সেনা! গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকায় ফাটল

গ্রিনল্যান্ড দখল করতে প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে, এমন হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সেই মতো মার্কিন সেনার বিশেষ বাহিনীকে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করে রাখার নির্দেশও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালাতে রাজি নন মার্কিন সেনার একাংশ শীর্ষ আধিকারিক।সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেল একটি মার্কিন প্রশাসনিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্প সেনার জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযানের সব রকম পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে বলেছেন। কিন্তু মার্কিন সেনার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফেরা কার্যত এই নির্দেশের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এ ভাবে গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালানো আইনবিরোধী এবং এমন সিদ্ধান্তে কখনওই সায় দেবে না মার্কিন কংগ্রেস।ওই সূত্রের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরেই গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালানোর কথা ভাবছেন। তবে সেনা আধিকারিকেরা বারবার তাঁর দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। কখনও আটলান্টিক মহাসাগরে রুশ জাহাজের তৎপরতার কথা তুলে ধরা হচ্ছে, আবার কখনও ইরানে হামলা চালানোর প্রসঙ্গ তোলা হচ্ছে।সূত্রের আরও দাবি, ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে আমেরিকায় আনার পরিকল্পনার পর থেকেই তাঁর নজর গ্রিনল্যান্ডের দিকে যায়। তাঁর আশঙ্কা, আমেরিকা দেরি করলে রাশিয়া বা চিন সেখানে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে ফেলতে পারে।ডেইলি মেলকে এক ব্রিটিশ কূটনীতিক জানিয়েছেন, ট্রাম্প নিজেও গ্রিনল্যান্ড দখল করতে আগ্রহী। তাঁর মতে, দেশে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ থেকে নজর ঘোরাতেই কখনও ভেনেজুয়েলা, কখনও গ্রিনল্যান্ড, আবার কখনও ইরানে হামলার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।চলতি বছরের শেষেই আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা। ট্রাম্পের আশঙ্কা, দেশের অর্থনৈতিক মন্দা ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাতে সুবিধা পেতে পারে ডেমোক্র্যাটরা এবং কংগ্রেস তাদের দখলে চলে যেতে পারে। সেই কারণেই বড় কোনও পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে ঘোরাতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
বিদেশ

নোবেল না পেয়েই রাগ! ভেনেজুয়েলার পর এবার মধ্যরাতে সিরিয়া আক্রমণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের

থামার কোনও লক্ষণ নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ভেনেজ়ুয়েলার পর এবার সিরিয়ায় হামলা চালাল আমেরিকা। মধ্যরাতে সিরিয়ার একাধিক এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্পের দাবি, ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।ডিসেম্বরের পর জানুয়ারিতে ফের সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালাল আমেরিকা। গত ডিসেম্বরেই সিরিয়ার উপর বড়সড় অভিযান চালিয়েছিল মার্কিন সেনা। সেই অভিযানে দুজন মার্কিন সেনা ও এক জন অনুবাদক নিহত হন। ওই অভিযানের নাম ছিল অপারেশন হক আই স্ট্রাইক। এবার সেই একই অভিযানের আওতায় ফের হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সিরিয়া জুড়ে সক্রিয় আইসিস জঙ্গিদের লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই হামলায় কত জন আইসিস জঙ্গি নিহত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।মার্কিন সেনার তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই অভিযানে তাদের এক সহযোগী বাহিনী সাহায্য করেছে। তবে সেই বাহিনী সিরিয়ার সেনা না অন্য কোনও গোষ্ঠী, তা স্পষ্ট করা হয়নি। এই বিষয়ে পেন্টাগনও কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বর্তমানে সিরিয়ায় এক হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।উল্লেখ্য, গত ১৩ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। তাঁর জায়গায় ক্ষমতায় আসেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা আহমেদ আল সারাহ। নতুন সিরিয়া সরকার বর্তমানে আইসিস বিরোধী অভিযানে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা করছে।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
বিদেশ

কারাকাসে রাতভর বিস্ফোরণ, শুরু কি আমেরিকার সরাসরি হামলা?

মাথার উপর দিয়ে একের পর এক বিমান উড়ছে, লাগাতার বিস্ফোরণের শব্দ। শনিবার ৩ জানুয়ারি ভোর থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভেনেজুয়েলার উপর সরাসরি মার্কিন হামলা শুরু হয়ে গেল?সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ২টো নাগাদ প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা কারাকাস। ভেনেজুয়েলার প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট টিউনা এবং লা কার্লোটা এলাকায় সামরিক বিমান উড়তে দেখা গিয়েছে। রাজধানীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।চোখে দেখা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আকাশে বারবার মার্কিন সেনার অ্যাপাচে ও চিনুক হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গিয়েছে। মিরান্ডা এলাকার বিমানবন্দরেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, সারফেস টু এয়ার মিসাইল ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত মার্কিন সরকার বা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকার করেননি।অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সেনা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের উপর হামলা হয়েছে। রাজধানী কারাকাসে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং গোটা শহর অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও প্রেসিডেন্ট ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নির্দেশে সেনা পাল্টা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে প্রশাসন। মার্কিন আগ্রাসনের ফলে বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। মাদুরো সরকার দাবি করেছে, ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের দখল নিতেই এই হামলা চালানো হচ্ছে।এর আগেও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই অভিযোগে অতীতে মাদক বোঝাই জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে রাজধানী কারাকাসে এই ধরনের ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
দেশ

মহা টুইস্ট! বাইজুর বিরুদ্ধে ‘বিলিয়ন ডলারের ষড়যন্ত্র’? আদালতে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

বাইজুর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া আগের রায় পাল্টে দিল ডেলাওয়ারের দেউলিয়া আদালত। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাইজু রাভীন্দ্রনকে ১.০৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। অভিযোগ ছিল, বাইজুর সাবসিডিয়ারি Byjus Alpha-র টাকা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন শুনানিতে আদালত জানায়, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এখনো ঠিক হয়নি। জানুয়ারি ২০২৬-এ নতুন পর্বে শুরু হবে ক্ষতির হিসেব নির্ধারণের প্রক্রিয়া।এর আগে আদালত বলেছিল, একাধিকবার নির্দেশ অমান্য করেছেন রাভীন্দ্রন। তাই চারটি আলাদা গণনায় মোট ১.০৭ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে এবং সম্পূর্ণ হিসেব দিতে হবে Alpha Funds-এর। Byjus Alpha তৈরি হয়েছিল ২০২১ সালে ১.২ বিলিয়ন ডলারের টার্ম লোন তোলার জন্য। ঋণদাতারা দাবি করেছিলেন, এর মধ্যে ৫৩৩ মিলিয়ন ডলার রাউন্ড-ট্রিপ করে রাভীন্দ্রন ও তাঁর সংস্থাগুলিতে গেছে। যদিও বাইজুর প্রতিষ্ঠাতা পক্ষ এই অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন।নতুন সিদ্ধান্তের পরে রাভীন্দ্রনের আইনজীবীরা পাল্টা দাবি তুলেছেন যে ঋণদাতা GLAS Trust এবং অন্যান্যরা আদালত ও জনসাধারণকে ভুল তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই ভুল তথ্যের জেরে কোম্পানি ভেঙে পড়েছে, প্রায় ৮৫,০০০ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ২৫ কোটি ছাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাভীন্দ্রন জানিয়েছেন, তিনি আদালতে প্রমাণ দেখাবেন যে ৫৩৩ মিলিয়ন ডলার ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়, বরং নিয়ম মেনে Think Learn-এ বিনিয়োগ করা হয়েছিল।আইনজীবীদের দাবি, GLAS Trust জানতে না পারার যে দাবি করেছে, তা মিথ্যা। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকেই তাদের কাছে থাকা নথি প্রমাণ করে যে Alpha-তে পাঠানো টাকা ভারতীয় আইন মেনে কোম্পানিতে ফিরেই বিনিয়োগ হয়েছিল।রাভীন্দ্রন আরও বলেন, আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে এবং এই ভুল তথ্যের জন্য GLAS Trust ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তিনি নতুন আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। তাঁর পক্ষের আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বছরের শেষের আগেই ২.৫ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা মামলা দায়ের করা হবে।

ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
দেশ

হঠাৎ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কারণ ঘিরে চর্চা তুঙ্গে!

রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি। শনিবার রাইসিনা হিলসে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে। বৈঠকের একটি ছবি রাষ্ট্রপতি নিজেই এক্স-এ পোস্ট করলেও, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা আসেনি। ফলে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাপান ও চিন সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। কূটনৈতিক দিক থেকে দুই সফরই গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বিশেষ নজর কাড়ছে চিন সফর। সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সম্মেলন ঘিরে গড়ে ওঠা অনানুষ্ঠানিক মিত্রতার সমীকরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্মেলনে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মোদীর বৈঠককে কেন্দ্র করে বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে, যা আমেরিকাকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অবস্থান পুনর্নির্মাণে এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।তবে শুধু বৈদেশিক সম্পর্কই নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বৈঠকের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কেননা, ৯ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের উত্তরসূরি কে হবেন, তা ঠিক করতে এখন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সময়। এমন পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আলাপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই বৈঠক আদৌ কি আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে আলোচনা, নাকি আসন্ন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত? উত্তর স্পষ্ট না হলেও, নয়াদিল্লির ক্ষমতার কেন্দ্রে নতুন সমীকরণের গুঞ্জন ইতিমধ্যেই জোরালো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার, ইউনেস্কো মামলায় তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রবেশপাস বিক্রির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার দুপুর একটা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দেন তিনি। তখন থেকেই CGO কমপ্লেক্স ঘিরে ফেলে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ। দুই কমিশনারেটের আধিকারিককে দেখা যায় সেখানে। বিকেল ৫টা ৬ মিনিট নাগাদ দফতর থেকে বেরোতেই তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় কলকাতা পুলিশ। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কুণাল আগরওয়াল।এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলি তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আইনানুগ পদক্ষেপ করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন একা নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইন্দ্রনীল ও মমতার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের জেলে যেতে হবে।তদন্তকারীদের অভিযোগ, মাস আর্ট নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর প্রবেশপাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল। পাসের দাম ছিল ১,৮০০ টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এইভাবে বিপুল অর্থ সংগ্রহ হলেও তার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির সঙ্গে ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী মধুচ্ছন্দার যোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে।বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি তদন্তে নামে ইডিও। লালবাজারে তলব এড়ানোর অভিযোগের মধ্যেই আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয় আদালতে। এখন তদন্তকারীদের নজর সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ, লেনদেন এবং তার প্রকৃত ব্যবহার খতিয়ে দেখার দিকে।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
রাজ্য

দশকের পর দশক বেহাল রাস্তা, আজও দুর্ভোগ! খাটিয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন গ্রামবাসীরা

গ্রামের যাতায়াতের রাস্তা এতটাই বেহাল যে সেখানে প্রবেশ করতে পারে না কোনও জরুরি পরিষেবার যানবাহন। ফলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য ভরসা বলতে গ্রামবাসীদের কাঁধে চাপানো খাটিয়া। সোমবার সকালে এমনই এক অসহায় পরিস্থিতির ছবি সামনে আসতেই তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুরে। অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ব্লকপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় শুইয়ে কাঁধে করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পরেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ব্লকপাড়া গ্রামে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত। অন্যদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। প্রশাসন ও বিধায়ক, উভয় পক্ষের তরফেই দ্রুত চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।কয়েক দশকের দুর্ভোগ, সরু আলই এখন যাতায়াতের ভরসাব্লকপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক আগে এলাকায় মাটির রাস্তা ছিল। কিন্তু গ্রামের একটি বিশাল জলাশয়ের কারণে সেই রাস্তা ক্রমশ কেটে যেতে থাকে। বর্তমানে একসময়ের মাটির রাস্তা কার্যত সরু আলের আকার নিয়েছে। ভাঙাচোরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করাই এখন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।গ্রামবাসীদের দাবি, রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি তাঁরা আগেও বহুবার পেয়েছেন। বিশেষ করে ভোটের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। তাই এবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের মনে।হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি নিজে এলাকায় গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছে।পেটের যন্ত্রণায় কাতর বৃদ্ধা, শেষ ভরসা খাটিয়াস্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্লকপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সি বেলি ঋষি সোমবার সকাল থেকেই পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। পরিবারের লোকজন জলপড়া দিয়েও তাঁর যন্ত্রণা কমাতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আশপাশের বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে খাটিয়ায় শুইয়ে তাঁকে কাঁধে করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।অসুস্থ বৃদ্ধার প্রতিবেশী সুমিতা মণ্ডল, বি ফল মণ্ডল ও অনিতা দাসদের অভিযোগ, গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের দাবি, রাস্তার অভাবে অনেক সময় ওঝা-গুনিনদের দ্বারস্থ হতে হয়। গ্রামে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তা থাকলেও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এদিন বৃদ্ধার পেটের যন্ত্রণা না কমায় বাধ্য হয়েই তাঁকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই রাস্তা তৈরির আশ্বাসএই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অজয় পাশোয়ান বলেন, তৎকালীন শাসকদলের উদাসীনতার কারণেই ব্লকপাড়া এলাকার এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রামের মানুষের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান অভিযোগের একাংশের বিরোধিতা করে জানান, যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখার পর তিনি ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সব মিলিয়ে, অসুস্থ বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ঘিরে ব্লকপাড়ার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যাটি ফের সামনে এসেছে। এখন গ্রামবাসীদের নজর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তার দিকেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বিয়ের চার দিন আগে প্রি-ওয়েডিং শুটে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, পূর্ববর্ধমানের ভাতারে মৃত তিন

বিয়ের বাকি আর মাত্র চার দিন। নতুন জীবনের সূচনার আগে হবু স্ত্রীকে নিয়ে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন যুবক। সেই উদ্দেশ্যেই দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে গুসকরার পথে রওনা দিয়েছিলেন হবু দম্পতি। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রা মুহূর্তে পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। স্করপিয়ো ও মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহী। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন হবু দম্পতি। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ঝর্ণা মোড়ের কাছে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা হলেন ভাতার থানার ওরগ্রামের বাসিন্দা সাধুজামাল শেখ ওরফে বচ্চন (৪৭), বর্ধমানের কমলসায়েরের শেখ নওয়াজ (২৩) এবং জামালপুরের মশাগ্রামের সুদেব ঘোষ (২৮)। সাধুজামাল মোটরবাইকের আরোহী ছিলেন। অন্যদিকে, স্করপিয়োয় থাকা শেখ নওয়াজ ও সুদেব পেশায় ফটোগ্রাফার ছিলেন। প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য তাঁদের সঙ্গে গুসকরার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বর্ধমানের দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা হবু দম্পতি আসরফ মল্লিক ওরফে রাজা এবং জিন্নাতুর খাতুন।নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানজমিতে উল্টে যায় স্করপিয়োপ্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমানের দিক থেকে একটি স্করপিয়োয় চড়ে গুসকরার দিকে যাচ্ছিলেন হবু দম্পতি ও দুই ফটোগ্রাফার। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে মোটরবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্করপিয়োটি জাতীয় সড়কের পাশে একটি ধানজমিতে গিয়ে উল্টে পড়ে।বিকট শব্দে দুর্ঘটনা ঘটতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। মৃতদেহগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলিও আটক করেছে পুলিশ।ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, প্রাথমিক অনুমান পুলিশেরপুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জাতীয় সড়কের উপর আচমকা একটি ছাগল চলে আসায় সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে স্করপিয়োর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তার জেরেই মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে। যদিও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।বিয়ের আনন্দের আগে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাহবু দম্পতির বিয়ের আর মাত্র চার দিন বাকি। জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। গুসকরার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি তোলার জন্য দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন আসরফ ও জিন্নাতুর।কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই দুর্ঘটনা তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনায় ছেদ টেনে দিল। একদিকে বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আতঙ্ক, অন্যদিকে দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। যে যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল নতুন জীবনের স্মৃতি তৈরি করা, সেই যাত্রাই হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুরের পর গাইঘাটা! নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে, কী ঘটেছিল ভোররাতে?

উত্তর ২৪ পরগনা: নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ঘটনার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এক অভিযুক্ত যুবকের। মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস, যিনি কল্যাণ দাস নামেও পরিচিত। পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।লক্ষ্মীপুজোর দিন উদ্ধার কিশোরীর দেহ, ঘনীভূত হয় রহস্যপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত লক্ষ্মীপুজোর দিন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি ছিল বিবস্ত্র, রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহের তালিকায় আসেন প্রহ্লাদ দাস নামে এক যুবক। তিনি নির্যাতিতার আত্মীয় বলেও জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ঠিক কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজতে শুরু হয় তদন্ত।ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতেই কি বদলে গেল পরিস্থিতি?তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশি সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার ভোররাতে সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।পুলিশের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পাল্টা গুলি চালানো হয়। তাতেই গুরুতর জখম হন প্রহ্লাদ দাস। এরপর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।যদিও গোটা ঘটনাক্রম সম্পর্কে পুলিশের এই বক্তব্যই এখনও মূল বিবরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি, গুলি চালানোর প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।বারুইপুরের ঘটনার সঙ্গে মিল, বাড়ছে চর্চাগাইঘাটার এই ঘটনার সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনার তুলনা টানা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর এবার গাইঘাটার ঘটনায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে।পরপর দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের মৃত্যুর ধরন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে মিল থাকলেও, প্রত্যেকটির পরিস্থিতি ও প্রমাণ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তদন্তের পাশাপাশি উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ননাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে যেমন দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ জরুরি, তেমনই পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা নির্ধারণে ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক প্রমাণ এবং তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।একদিকে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে পুলিশি অভিযানে অভিযুক্তের মৃত্যুর পরিস্থিতিদুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গাইঘাটার এই ঘটনা তদন্তের পর কোন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি ঠিক কী ছিল এবং তদন্তে কী কী তথ্য উঠে আসে? তার উত্তর মিলবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের পরেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

তিন সপ্তাহেই বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, বাঘ ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধাক্কা

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন করে অনিশ্চয়তা। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনী টি ১৩৮ বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।গত ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত ঘটা করে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে তার নাম রাখা হয় বিটিআর টিএফ-১। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পর্যাপ্ত শিকারের ব্যবস্থা এবং জলাশয় গড়ে তোলার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও বাঘিনীর অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর প্রথম দেড় সপ্তাহ বাঘিনীটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। পরে ধীরে ধীরে তার বিচরণক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসম ও বাংলার সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীর আশপাশে পৌঁছে যায় সে। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হয় অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান।বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সঙ্গী বা মর্দা বাঘের সন্ধান কিংবা স্বাভাবিক বিচরণ প্রবৃত্তির কারণেই বাঘিনীটি বক্সা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, বক্সায় বাঘের বংশবিস্তার ও স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে একাধিক বাঘ আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে মাত্র একটি বাঘিনীকে এনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখতে তার গলায় পরানো হয়েছিল হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলার। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যদিও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যে সহজ নয়, সেই যুক্তিও সামনে আসছে। তবে এত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও বাঘিনীর গতিপথ নিয়ে বন দপ্তরের পরিকল্পনা ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্তার বক্তব্য, নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী সে অন্যত্র চলে যেতেই পারে।এদিকে বাঘিনীটিকে ঘিরে বন দপ্তরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একবার অসমের জঙ্গলের পথ চিনে নেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও ভবিষ্যতে সে আবার একই পথে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি বিশেষ দল অসমে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অন্যদিকে, অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই ছয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বাঘিনীটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, নাকি আরও গভীরে মানস ব্যাঘ্র প্রকল্পের দিকে চলে যায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।সব মিলিয়ে, বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার শুরুতেই এই ঘটনা বন দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাঘিনীর অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া নতুন করে ভাবাচ্ছে বনকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
দেশ

মোদির বাবা তুলে খাড়গের কটাক্ষ, দেশজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ! ‘ভারতের অপমান’ বলে তীব্র আক্রমণ রাজনাথের

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। বিতর্কে কংগ্রেসকে পালটা আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও।নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজনৈতিক মহল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে ভারতের অপমান বলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বিজেপির অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে খাড়গে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই মন্তব্যের জন্য তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাই নয়, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিক্ষোভে বিজেপিখাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার বিহারে বড়সড় মিছিল বের করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খাড়গের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মুতেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা খাড়গের পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে টেনে এনে আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। সেই কারণেই খাড়গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে দল।এটা ভারতের অপমান, খাড়গেকে নিশানা রাজনাথেরএই বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যে দল নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই দলের সভাপতির মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন তিনি।রাজনাথের কথায়, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে এই মন্তব্যগুলি কোনও সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং এমন এক দলের সভাপতি করেছেন, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।এখানেই থামেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খাড়গের মন্তব্যকে দেশের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, খাড়গের এহেন মন্তব্য আসলে ভারতের অপমান।রাজনাথের আরও অভিযোগ, নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেসের তরফে খাড়গের মন্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে। ফলে শুধু খাড়গে নন, গোটা কংগ্রেস নেতৃত্বকেই এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।কী বলেছিলেন খাড়গে? কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পাটনায়। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সভায় বক্তৃতা করার সময়ই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।খাড়গে যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গে শুনতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন অন্যভাবে। তাঁর কানে পৌঁছয়, মোদি কোথাও যাবেন না।এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই সময় তিনি বলেন, মোদির বাপকেও যেতে হবে।খাড়গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁর বাবাকে টেনে এনে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। এই বক্তব্যের জন্য খাড়গের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত আগামী দিনে কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন নয়। তবে সেই বিরোধিতা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছলে তা রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। খাড়গের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং বিজেপির ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal